
ভুল আকারের ভিডিও আপলোড করলে প্ল্যাটফর্ম নিজে কেটে দেয় বা চারপাশে কালো বর্ডার বসায়, আর সাথে সাথে অপেশাদার দেখায়। সংখ্যাগুলো জানা থাকলে রিলস আর শর্টসের ভিডিও সাইজ ঠিক করতে এক মিনিটও লাগে না। এই গাইডে এক নজরে সব সাইজ, লেখার সেফ জোন, আর একটা স্ক্রিন রেকর্ড থেকে সব ফরম্যাট বানানোর উপায় পাবেন।
এক নজরে ভিডিও সাইজ
| প্ল্যাটফর্ম | অনুপাত | রেজোলিউশন | কোথায় ভালো |
|---|---|---|---|
| YouTube | 16:9 | 1920×1080 | লম্বা টিউটোরিয়াল |
| YouTube Shorts | 9:16 | 1080×1920 | ছোট টিপস |
| Instagram / Facebook Reels | 9:16 | 1080×1920 | ট্রেন্ডিং, প্রোমো |
| TikTok | 9:16 | 1080×1920 | ছোট ডেমো |
| Instagram feed | 4:5 | 1080×1350 | ফিড পোস্ট |
| Facebook feed | 4:5 বা 16:9 | 1080×1350 / 1920×1080 | পেজের পোস্ট |
| 16:9 / 1:1 | 1920×1080 | প্রোডাক্ট ডেমো |
এগুলো এখন বেশিরভাগ ক্রিয়েটর যে সাইজ ব্যবহার করেন। প্ল্যাটফর্মগুলো মাঝে মাঝে নিয়ম বদলায়, তাই আপলোডের পর কিছু অদ্ভুত লাগলে প্ল্যাটফর্মের নিজের হেল্প পেজে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।
অনুপাত আর রেজোলিউশনের পার্থক্য
অনুপাত (অ্যাসপেক্ট রেশিও) হলো ফ্রেমের আকার: ১৬:৯ টিভির মতো চওড়া, ৯:১৬ খাড়া করে ধরা ফোনের মতো লম্বা, আর ৪:৫ একটু লম্বাটে আয়তক্ষেত্র, যা বর্গের চেয়ে ফিডে বেশি জায়গা নেয়। প্ল্যাটফর্ম ভিডিও কাটবে নাকি বর্ডার দেবে, সেটা ঠিক হয় অনুপাত দিয়ে।
রেজোলিউশন হলো সেই আকারে কত পিক্সেল আছে। ১০৮০×১৯২০ আর ৭২০×১২৮০ দুটোই ৯:১৬, কিন্তু প্রথমটা বেশি পরিষ্কার। বেশিরভাগ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের জন্য ছোট দিকে ১০৮০ পিক্সেলই আদর্শ: ফোনে ঝকঝকে, আবার মোবাইল ডেটায় আপলোড করতে অনন্তকাল লাগে না।
খাড়া ভিডিওর "সেফ জোন"
রিলস আর শর্টসে নিচে ক্যাপশন, ইউজারনেম আর বাটন থাকে, আর ডানে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের আইকন। ওখানে যা রাখবেন, ঢাকা পড়ে যাবে।
- গুরুত্বপূর্ণ লেখা আর ক্যাপশন রাখুন ফ্রেমের মাঝের অংশে।
- উপর আর নিচে প্রায় ১৫%, আর ডানে প্রায় ১০% জায়গা খালি রাখুন।
- স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ে যে বাটনে ট্যাপ করছেন, সেটা যেন প্ল্যাটফর্মের আইকনের নিচে লুকিয়ে না যায়। ওই জায়গায় জুম করলে সুবিধা হয়।
- পোস্ট করার আগে একটা এক্সপোর্ট নিজের ফোনে দেখে নিন, কারণ অ্যাপভেদে ওভারলে একটু আলাদা।
এক রেকর্ড থেকে সব সাইজ
ফোনের স্ক্রিন খাড়া, ইউটিউব চওড়া, তাহলে কি দুইবার রেকর্ড করবেন? দরকার নেই। সিনেমাটিক রেকর্ডার রেকর্ডের সময় আপনার ট্যাপ আর কার্সর কোথায় ছিল তা জানে। এক্সপোর্টে ১৬:৯, ৯:১৬ বা ৪:৫ বেছে নিলে শুধু মাঝখান কেটে না নিয়ে ফ্রেম নিজে রিফ্রেম করে গুরুত্বপূর্ণ অংশটা ভেতরে রাখে।
সব এডিট নন-ডেস্ট্রাকটিভ, তাই আসল রেকর্ডিং অক্ষত থাকে। একই প্রজেক্ট থেকে আজ চওড়া ইউটিউব ভার্সন আর কাল খাড়া শর্টস এক্সপোর্ট করতে পারবেন। পুরো পদ্ধতি আছে চওড়া ভিডিওকে খাড়া করে রিফ্রেম করার গাইডে।
কোন সাইজ বেছে নেবেন?
ধাপে ধাপে কিছু শেখাচ্ছেন
টিউটোরিয়াল কয়েক মিনিট লম্বা হলে ইউটিউবের জন্য ১৬:৯ নিন। দর্শক প্রায়ই ল্যাপটপ বা টিভিতে দেখে, আর ধীরস্থির, বিস্তারিত গতির সাথে চওড়া ফ্রেম মানায়।
একটা ছোট টিপ বা ফলাফল
রিলস, শর্টস আর টিকটকের জন্য ৯:১৬ নিন। একটা আইডিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকুন। সঠিক মুহূর্ত কীভাবে বাছবেন তা পাবেন স্ক্রিন রেকর্ডিং থেকে ইউটিউব শর্টস গাইডে।
পেজ বা প্রোফাইলের ফিডে পোস্ট
৪:৫ নিন। ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুক ফিডে এটা ১৬:৯-এর চেয়ে বেশি জায়গা নেয়, কাটা পড়ে না। আরও জানুন ফিড ভিডিওতে ৪:৫ কেন ভালো লেখায়। এফ-কমার্স পেজে ৪:৫ প্রোডাক্ট ডেমো ফিডে সুন্দর মানায়।
লিংকডইন
প্রোডাক্ট ডেমোর জন্য ১৬:৯ ভালো চলে। লিংকডইন বর্গাকার ভিডিওও দেখায়; সিনেমাটিক রেকর্ডার ১৬:৯, ৯:১৬ আর ৪:৫-এ এক্সপোর্ট করে, আর ফিডে বেশি জায়গা চাইলে ৪:৫ একটা ভালো লম্বাটে বিকল্প।
আপলোডের আগে ৩০ সেকেন্ডের চেক
- এক্সপোর্ট করা ভিডিওটা ফোনে ফুল স্ক্রিনে দেখুন। প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ ট্যাপ কি ফ্রেমের ভেতরে, কিনারা থেকে দূরে আছে?
- প্রতিটা লেখা পড়ে দেখুন। আপনাকে চোখ কুঁচকে পড়তে হলে দর্শককেও হবে। আরও কাছে জুম করুন বা লেখা বড় করুন।
- প্রথম ফ্রেমটা দেখুন। অনেক প্ল্যাটফর্ম ভিডিও লোড হওয়ার সময় এটা দেখায়, তাই এটা নিজেই যেন অর্থবহ হয়।
- একটা কভার বেছে নিন। রিলস আর শর্টসে ফাঁকা মেনুর বদলে ফলাফল দেখানো একটা ফ্রেম বাছুন।
- ফ্রেম রেট স্থির রাখুন। বেশিরভাগ টিউটোরিয়ালে ৩০fps যথেষ্ট; গেম আর দ্রুত স্ক্রলিংয়ে ৬০fps সাহায্য করে।
এই ছোট অভ্যাসটা দর্শকের আগেই বেশিরভাগ সমস্যা ধরে ফেলে, আর কাটা পড়া ভিডিও আবার আপলোড করার চেয়ে অনেক কম সময় নেয়।
সাধারণ প্রশ্ন
রিলের সাইজ কত?
৯:১৬ খাড়া, ১০৮০×১৯২০ পিক্সেল। ইউটিউব শর্টস আর টিকটকেও একই সাইজ চলে।
এক রেকর্ডিং থেকে কি ইউটিউব ভিডিও আর রিল দুটোই হবে?
হ্যাঁ। একবার ১৬:৯ আর একবার ৯:১৬-এ এক্সপোর্ট করুন; সিনেমাটিক রেকর্ডার মূল অংশ ফ্রেমে রেখে রিফ্রেম করে।
১৬:৯ ভিডিও রিল হিসেবে দিলে কী হয়?
সাধারণত ছোট হয়ে দেখায়, উপরে-নিচে বড় কালো জায়গা থাকে, বা কেটে যায়। আপলোডের আগে ৯:১৬-এ রিফ্রেম করলে অনেক ভালো ফল পাবেন।
৭২০p কি যথেষ্ট?
চলে, তবে স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের ছোট লেখা একটু ঝাপসা লাগতে পারে। টিউটোরিয়ালের জন্য ১০৮০p নিরাপদ পছন্দ।
সাইজগুলো জানা হয়ে গেলে সব জায়গায় পোস্ট করা আর ঝামেলা থাকে না, অভ্যাস হয়ে যায়। শিখুন এক টিউটোরিয়াল থেকে ৫টা রিল বানানো, আর অ্যাপের সব এক্সপোর্ট ফরম্যাট দেখুন।
এই লেখার সাথে সম্পর্কিত ফিচার